বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান পরিচিতি (পাঠ : ১)

বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

369

বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। এগুলোর মধ্যে বিহার, চৈত্য, বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব ও দেব-দেবীর মূর্তি, স্তূপ, প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও নগরের ধ্বংসাবশেষ, ব্যবহার্য দ্রব্য, পোড়ামাটির ফলক, চিত্র, মুদ্রা, শিলালিপি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসবের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে।
খননকার্যের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহার ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শালবন মহাবিহার, আনন্দবিহার, ভোজবিহার, রূপবান বিহার, ইটাখোলা বিহার, কৌটিল্যমুড়া, কোটবাড়ীমুড়া, চারপত্রমুড়া, ত্রিরত্নমুড়া উল্লেখযোগ্য। বগুড়া জেলায় আবিষ্কৃত বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মহাস্থানগড়, ভাসুবিহার, গোবিন্দভিটা, বৈরাগীর ভিটা অন্যতম। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। এছাড়া এ অঞ্চলে হলুদ বিহার, জগদ্দল বিহারের ধ্বংসাবশেষ আছে। দিনাজপুরে সীতাকোট বিহারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। সম্প্রতি নরসিংদী জেলায় উয়ারী-বটেশ্বর, পঞ্চগড়ে পদ্মবিহার, এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার রঘুনাথপুরে বিক্রমপুরী বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো আমাদের অতীত ঐতিহ্যের স্মারক। বাংলাদেশ সরকার এগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করছে। এসব বৌদ্ধ ঐতিহ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়।
আধুনিককালে নির্মিত অপূর্ব সুন্দর বৌদ্ধবিহার ও বুদ্ধমূর্তি আছে, যেগুলো বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। বৌদ্ধবিহারগুলোর মধ্যে পাহাড়তলীর মহামুনি বিহার, রাউজানের সুদর্শন বিহার, বাগোয়ানের ফরাচিন বিহার, পটিয়ার সেবাসদন বিহার, ঠেগরপুনির বুড়া গোঁসাই বিহার, চক্রশালা বিহার, রামুর রামকোট বিহার, কক্সবাজারের অগ্‌গমেধা বিহার, রাঙামাটির চিৎমরম বিহার, রাজবন বিহার, সীতাকুণ্ডের সঙ্ঘারাম বিহার, খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অবস্থিত অরণ্য কুটির বিহার, ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার, বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এসব বিহারে স্থাপিত বুদ্ধমূর্তি ও অন্যান্য স্থাপনার নির্মাণশৈলী খুবই চমৎকার। বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন কাহিনি বিহারের দেয়ালে অঙ্কিত আছে, যা আকর্ষণীয় এবং দর্শনার্থীর মনে ধর্মভাব জাগ্রত করে। দেড় শ বছর আগে ঠেগরপুনি গ্রামের পুকুরে একটি বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। কথিত আছে যে, স্বর্ণমুদ্রার পাত্রসহ মূর্তিটি পুকুর থেকে উদ্ধার করার জন্য হারাধন বড়ুয়ার স্ত্রী নীলমনি বড়ুয়া স্বপ্নে আদেশপ্রাপ্ত হন। তাঁর স্বপ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্বর্ণমুদ্রার পাত্রসহ মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটি অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলে জানা যায়। এই মূর্তির নিকট যদি কেউ কুশলচিত্তে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, তার সেই মনোবাসনা পূর্ণ হয়। অনুরূপভাবে চিৎমরমের বুদ্ধমূর্তি, মহামুনি বুদ্ধমূর্তি, বাগোয়ানের ফরাচিন মূর্তিও অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলে বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে। তাই অনেক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ যেকোনো শুভকাজ আরম্ভ করার আগে এসব বিহারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বিহারগুলো মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এসব বিহার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন পূর্ণিমা তিথিতে মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। জাতি- ধর্মনির্বিশেষে এসব স্থানে বহু পর্যটকের সমাগম হয়। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক বৌদ্ধবিহার, চৈত্য ও বুদ্ধমূর্তি আছে। এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর।

অনুশীলনমূলক কাজ
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের তালিকা তৈরি করো (দলীয় কাজ)।
আধুনিক কালের দশটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ বিহারের নাম লেখো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...